প্রদর্শনীতে প্রবেশ করলেই নজরে আসবে লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ও অন্যান্য উপকরণের নির্মিত বিভিন্ন আকারের যন্ত্র। এর ভেতর কিছু যন্ত্র পণ্যের প্যাকেজিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়, কিছু যন্ত্র বিভিন্ন পণ্যের ছাঁচ ও ডিজাইন তৈরি সক্ষম। আবার বিশেষ কিছু প্রতিষ্ঠান ইন্ডাস্ট্রিয়াল হিটার প্রদর্শন করছেন। কৃষিতে ব্যবহৃত আধুনি যন্ত্রপাতির প্রদর্শনের জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রদর্শনীতে ৩০টির ওপর প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে, যাদের ৪৯টি স্টল রয়েছে।
তিন দিনের এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী একটি প্রতিষ্ঠান হলো মদিনা মেটাল। তারা ভ্যান, রিকশা এবং মোটরসাইকেলের জন্য সাইড স্ট্যান্ড, রিম-বিয়ারিংসহ একশরও বেশি ধরনের যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে। প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাব্বির হোসেইন বলেন, দেশে এই ধরনের পণ্যের তলব বেশি। যা আগে বিদেশ থেকে আনতে হতো, অনেক পণ্য এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। মদিনা মেটাল বছরে মোট ১০০ কোটি টাকার বিক্রয় করে।
“বাংলাদেশ হালকা প্রকৌশল প্রদর্শনী” নামে এই মেলা রাজধানীর মিন্টো রোডের শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন কেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনী বুধবার পর্যন্ত প্রতি দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইআইওএ), যা একই আয়োজনের দ্বিতীয় পর্ব।
সুইস বায়োহাইজেনিক ইকুইপমেন্ট লিমিটেড জানাচ্ছে, তারা তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং ভেসেল প্রদর্শন করেছে। এই যন্ত্রটি দিয়ে খাদ্য, ঔষধ, পানীয় এবং প্রসাধনী সামগ্রী উৎপাদন সম্ভব।
সুইস বায়োহাইজেনিক ইকুইপমেন্টের বিক্রয় বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, এই যন্ত্রের জন্য কোন পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে তা নির্ভর করে যন্ত্রটির গ্রেডের উপর। গ্রেড অনুযায়ী যন্ত্রটির ডিজাইন, প্রযুক্তি ও মূল্য পরিবর্তিত হয়। তবে দেশীয় উৎপাদনের কারণে এই যন্ত্রগুলি বিদেশ থেকে আমদানি করা যন্ত্রের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রি হয়।
আজ সকালে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান প্রধান অতিথি হিসেবে, এবং বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাতের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ হোসনা ফেরদৌস বিশেষ অতিথি হিসেবে। অনুষ্ঠানে বিইআইওএর সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক ও সহসভাপতি রাজু আহমেদসহ অন্যান্য প্রাক্তন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথার বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান মন্তব্য করেন যে, দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রে মূলত তৈরি পোশাক শিল্পেই অধিকাংশ কাজ হচ্ছে। হালকা প্রকৌশল খাতে এখনও উন্নয়ন সঠিকভাবে হয়নি। তবে উদ্ধারের সুযোগ এখনও আছে। এই খাতের উন্নয়নে সরকার, উদ্যোক্তা, প্রকৌশলী এবং গবেষকদের আরও সক্রিয় হতে হবে। দেশে অন্তত ২৫ শতাংশ জনগণের পণ্য ক্রয়ের সামর্থ্য রয়েছে। তাই রপ্তানির পাশাপাশি দেশীয় বাজারের প্রয়োজনও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাতের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ হোসনা ফেরদৌস জানাচ্ছেন, দেশের হালকা প্রকৌশল ও ছোট-মাঝারি শিল্পগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো পণ্যের গুণগত মান। এজন্য উৎপাদনকারী যন্ত্র ও প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাছাড়া পণ্যের উৎপাদনে আইওটি প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অপরিহার্য।
বিইআইওএর সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশের মোট জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ। সারা দেশে এই খাতে ১০ লাখের বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। যদি শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করে, তবে এই খাতের উন্নয়নে আরও ভাল ফল অজিত করা সম্ভব।

